Summary
মনে হচ্ছে, আমরা যা দেখতে পাই সেটি হলো আলো। গাছপালা, আকাশ, চেয়ার, টেবিল ও মানুষ—এসব আলোর প্রতিফলনের ফলস্বরূপ আমাদের চোখে ধরা পড়ে। আলো হচ্ছে বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ, যার তরঙ্গ দৈর্ঘ্য আছে। তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বিভিন্ন হতে পারে, সাধারণত 400 nm থেকে 700 nm এর মধ্যে যা আমরা দেখতে পাই।
পদার্থবিজ্ঞান অনুযায়ী, আলোর বিভিন্ন তরঙ্গ দৈর্ঘ্য আমাদের চোখে বিভিন্ন রঙ দেখায়: ছোট তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বেগুনি, এবং দীর্ঘ তরঙ্গ দৈর্ঘ্য রেড। মানুষের চোখের সীমাবদ্ধতার মধ্যে থাকা শ্রেণীভুক্ত আলোর বাইরেও অন্যান্য প্রাণী দেখতে পারে।
দৃশ্যমান আলো থেকে ছোট তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের আলোকিত অংশগুলিকে আলট্রা ভায়োলেট, এক্স-রে এবং গামা রে হিসাবে দেখা যায়, আর বড় তরঙ্গ দৈর্ঘ্যই ইনফ্রারেড, মাইক্রোওয়েভ ও রেডিও ওয়েভ হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়। এসব আলোর বিভাজন পদার্থবিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
আমরা চোখে যেটা দেখতে পাই, সেটা হচ্ছে আলো। আমরা চোখে গাছপালা দেখি, আকাশ দেখি, চেয়ার-টেবিল দেখি, মানুষ দেখি, তার মানে এই নয় যে পাছপালা, আকাশ, চেয়ার-টেবিল কিংবা মানুষ হচ্ছে আলো। এগুলো থেকে আলো প্রতিফলিত হয়ে সেই আলোটা আমাদের চোখে পড়ে, চোখের রেটিনা থেকে সেই আলো দিয়ে তৈরি সংকেত আমাদের মস্তিষ্কে পৌঁছায় আর আমাদের মস্তিক্ষ বুঝতে পাৱে কোনটা গাছপালা কিংবা কোনটা মানুষ। পুরো ব্যাপারটা শুরু হয় চোখের মাঝে আলো ঢোকা থেকে।
আলো হচ্ছে বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ। তরঙ্গ হলেই তার একটা তরঙ্গ দৈর্ঘ্য থাকে, তার মানে আলোরও নিশ্চয়ই তরঙ্গ দৈর্ঘ্য আছে। আমরা যারা পুকুরে ঢিল ছুড়ে কিংবা একটা দড়িতে ঝাঁকুনি দিয়ে তরঙ্গ তৈরি করেছি, তারা জানি যে ইচ্ছে করলেই ছোট-বড় তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের ভরা তৈরি করা যায়, তাই আলোরও নিশ্চয়ই নানা তরঙ্গ দৈর্ঘ্য থাকতে পারে। কথাটা সঠিক, বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গের দৈর্ঘ্য যা কিছু হতে পারে। সেটা কয়েক কিলোমিটার থেকেও বেশি হতে পারে আবার এক মিটারের ট্রিলিয়ন মিলিয়ন ভাগের এক ভাগও হতে পারে। যে বিষয়টা আমাদের ভালো করে জানা দরকার, সেটি হচ্ছে এই সম্ভাব্য বিশাল তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের ছোট একটা অংশ আমরা দেখতে পাই, তরঙ্গ দৈর্ঘ্য এর থেকে বেশি হলেও আমরা দেখতে পাই না আবার এর থেকে ছোট হলেও আমরা দেখতে পাই না। তরঙ্গ দৈর্ঘ্য 400 nm থেকে 700 nm এর ভেতরে হলে আমরা বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ দেখতে পাই এবং সেটাকে আমরা বলি আলো। আমরা যে চোখে নানা রং দেখতে পাই সেগুলোও আসলে বিভিন্ন তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের আলো। তরঙ্গ দৈর্ঘ্য যখন ছোট হয় সেটা হয় বেগুনি। যখন তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বাড়তে থাকে তখন সেটা নীল সবুজ হলুদ কমলা লাল হয়ে চোখের কাছে অদৃশ্য হয়ে যায়। মানুষের চোখ এই ব্যাপ্তির বাইরে তরঙ্গ দৈর্ঘ্য দেখতে পায় না কিন্তু পোকামাকড় বা অন্য অনেক প্রাণী এর বাইরেও দেখতে পায়। বিভিন্ন আলোতে মানুষের চোখের সংবেদনশীলতা 8.01 চিত্রতে দেখানো হয়েছে।
(8.01) চিত্রে আলোর বিভিন্ন তরঙ্গ দৈর্ঘের যদি দৃশ্যমান আলোর সবচেয়ে ছোট তরঙ্গ দৈর্ঘ্য থেকেও ছোট হয়, সেটাকে আমরা বলি আলট্রা ভায়োলেট আলো, আরো ছোট হলে এক্স-রে আরো ছোট হলে গামা রে—যেটা তেজস্ক্রিয় নিউক্লিয়াস থেকে বের হয়। আবার তরঙ্গ দৈর্ঘ্য যদি দৃশ্যমান আলোর সবচেয়ে বড় তরঙ্গ দৈর্ঘ্য থেকেও বড় হয়, সেটাকে আমরা বলি ইনফ্রারেড, আরো বড় হলে মাইক্রোওয়েভ, আরো বড় হলে রেডিও ওয়েভ। পদার্থবিজ্ঞান শিখতে হলে যে বিষয়গুলো জানতে হয়, বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গের এই বিভাজনটি হচ্ছে তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়।
Read more